সাদেক মিয়া। ১২ বছর ধরে চালান সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এই আয় দিয়েই মেটাতে হয় তার চার সদস্যের সংসার খরচ। শুরুর দিকে ঠিকঠাক চললেও কয়েকবছর ধরে মেলাতে পারছেন না আয়-ব্যয়ের হিসাব।

নিজস্ব প্রতিবেদক,
তিনি বলেন, মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। কিন্তু এতে তো আর সংসার চলে না। বাসা ভাড়া দিই ১১ হাজার টাকা। এরপর চারজন মানুষের খাওয়া। সব মিলিয়ে মাসে আরও ২ হাজার টাকার টানাপোড়েন থাকে।
এমন চিত্র অনেকেরই। নিত্যদিনের ব্যয় বৃদ্ধির চাপ এখন ঘিরে ধরেছে উচ্চ মধ্যবিত্তদেরও। বেশিরভাগ মানুষ বলছেন, সব কিছুর খরচ এতটা বেড়েছে যে, বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নেই। ফলে জীবনযাপনের হিসাব মেলাতে হাঁসফাঁস অবস্থা সাধারণ মানুষের।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গেল ১২ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। আর ৯ দশমিক ০২ শতাংশ ছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে। বিবিএসরই হিসাব, ২০২৪ সালে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ে মানুষের আয় বেড়েছে ৭.৮৮ শতাংশ হারে। আর ৭.৪৩ শতাংশ হারে বেড়েছে এর আগের বছর। অর্থাৎ আয় যেভাবে বাড়ছে ব্যয় বাড়ছে তারচেয়ে বেশি।
এরসঙ্গে লুটপাটকেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্য, দুর্নীতি ও উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অবৈধ কমিশনের কারণে ধনী-গরিবের পার্থক্যটা খুব বেশি। ফলে এক শ্রেণির ভোগ বাড়লেও আরেক শ্রেণিকে করেছে ভোগ বঞ্চিত।
প্রত্যক্ষ কর আদায় বাড়াতে পারলে ধনী-গরীব বৈষম্যও কমে আসবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
গবেষক ও অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে বিভিন্ন রকমের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। সম্পদ বণ্টনে অসমতা, এগুলো বড় রকমের উদ্বেগের বিষয়। সংকট সমাধানে সফট লোনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে এসএমই গুলোই মূলত কর্মসংস্থান তৈরি করবে। এই একটা সুযোগ আমরা যেন আমাদের কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে পারি।