যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হারের পর প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে বক্তব্য দিয়েছেন ডেমোক্র্যোটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড ইউনিভার্সিটিতে এক অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে কর্মী-সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কমলা হ্যারিস।
তিনি বলেন, ‘আজ আমার হৃদয় পরিপূর্ণ হয়েছে। আপনারা আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞ। আমাদের সব ভালোবাসা দেশের জন্য।’
কমলা বলেন, ‘তারা কখনো হাল ছেড়ে দেবেন না। লড়াই চালিয়ে যাবেন। এর মধ্য দিয়ে আমেরিকা সব সময় উজ্জ্বল থাকবে।’
বক্তব্যে হ্যারিস তার পরিবারের সদস্য, বিশেষ করে স্বামী ডগলাস এমহফ, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ফাস্ট লেডি জিল বাইডেন, রানিং মেট টিম ওয়ালজ ও তাদের পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি দলের স্বেচ্ছাসেবক, ভোটার ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে লড়াই করেছি এবং যেভাবে লড়েছি তাতে আমি গর্বিত।’ সমর্থকদের ভোটের ফলাফল মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে হ্যারিস বলেন, ‘আমি জানি এই মুহূর্তে আমদের মধ্যে অনেক আবেগ অনুভূতি কাজ করছে। আমি বুঝতে পারছি। তবে আমাদের অবশ্যই এই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে হবে।’
ট্রাম্পকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন বলেও নিশ্চিত করেন কমলা হ্যারিস। তিনি বলেন, আজ আমি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি।
নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পকে সহায়তার কথাও বলেন কমলা। তার ভাষায়, ‘আমি তাকে (ট্রাম্প) বলেছি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি ও তার দলকে (রিপাবলিকান পার্টি) আমরা সাহায্য করব। আর এভাবে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরে যুক্ত হব।’
ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করে কমলা বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি সম্মান জানানোটা এমন একটা জিনিস, যা গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয়। জনগণের সমর্থন পেতে চান-এমন সবার এর প্রতি সম্মান জানানো উচিত।
নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন কমলা। তবে ট্রাম্পের কাছে হারের পর তিনি বলেন, ‘আমি জানি অনেকেই মনে করছেন, আমরা একটি অন্ধকার সময়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। তবে আমাদের সবার ভালো জন্য, আশা করছি তেমন কিছু হবে না।’
তরুণ সমর্থকদের হাল না ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে হ্যারিস বলেন, ‘আমাদের দেশের জন্য লড়াই সবসময়ই মূল্যবান। দুঃখ এবং হতাশা আসতে পারে, তবে একদিন এটা ঠিক হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, কখনও কখনও ফল কিছুটা দেরিতে আসে, এর অর্থ এই নয় যে আমরা জিতব না। হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না, আপনাদের সেই ক্ষমতা আছে।
মঙ্গলবারের (৫ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ। আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ৫৩৮টি ইলেক্টোরাল কলেজের মধ্যে রিপাবলিকান ট্রাম্প পেয়েছেন ২৯৫টি। যেখানে বিজয়ী হতে প্রয়োজন ২৭০টি ইলেক্টোরাল কলেজ। আর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ২২৬টি। এখনো দুটি অঙ্গরাজ্যে ফল ঘোষণা বাকি।