মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনকে রাজকীয় বলছেন অনেকে। নতুন প্রেসিডেন্টের দিকে শুধু মার্কিনিরাই নন, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে। অনেকে আশায় আছেন, চলমান বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর সমাধানও দেবেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই আলোড়ন তুলেছে মার্কিন নারীদের ‘ফোর বি’ আন্দোলন।

নিজস্ব প্রতিবেদক,
‘ফোর বি’ আন্দোলন কী?
‘ফোর বি’ আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জানতে হলে, যেতে হবে একটু পেছনে। ২০১৬ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল সাবওয়ে স্টেশনে হত্যা করা হয় এক নারীকে। এ ঘটনায় সামনে আসে নারীদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার না থাকার বিষয়টি। পরে চারটি নীতি নিয়ে শুরু হয় ফোর বি আন্দোলন। চারটি নীতিই কোরীয় ভাষায় শুরু হয়েছে ‘বি’ দিয়ে, যার অর্থ হলো ‘না’।
শব্দগুলো হলো-
১. বিহন: বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত।
২. বিচুলসান: সন্তান জন্ম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত।
৩. বিইয়েওনায়: প্রেমিকের সঙ্গে ডেটিং না করার সিদ্ধান্ত।
৪. বিসেকসেউ: শারীরিক সম্পর্ক না করার সিদ্ধান্ত।
এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল নারীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
সিএনএনের তথ্য বলছে, বহু মার্কিন নারীর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিজয়। সিএনএনের বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রাপ্ত নারী ভোটের হার ৪৬ শতাংশ, যেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস পেয়েছেন ৫৪ শতাংশ নারী ভোটারদের সমর্থন।
এবারের নির্বাচনের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল গর্ভপাতের অধিকার। ট্রাম্পের আমলে সুপ্রিম কোর্টে নিয়োগ দেয়া তিনজন রক্ষণশীল বিচারপতির মাধ্যমে গর্ভপাতের অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। একই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত। সবকিছু মিলিয়েই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নারীরা।
এরই মধ্যে গর্ভপাতের আইনি অনুমোদনের বিপক্ষে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো চাইছে আইনি অধিকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নতুন সরকারকে রক্ষণশীল দাবি করে নিজেদের ব্যক্তিস্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছেন মার্কিন নারীরা। এ থেকেই ‘ফোর বি’ আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন। সামাজিক মাধ্যম টিকটক এবং এক্সে নিজেদের অভিমতও প্রকাশ করছেন মার্কিন নারীরা।