
রাহেলা আফরোজ জিতু,
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীদের ওপর গত রবিবারে (২৪ নভেম্বর) ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বুটেক্স শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
বুটেক্স শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি গোষ্ঠী সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বুটেক্সের শহীদ আজিজ হলে হামলা চালিয়েছে এবং পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তারা জানায়, সন্ত্রাসী কায়দায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে যেখানে কাঁচের বোতল, লোহার টুকরো এবং ইট-পাটকেল দিয়ে আমাদের ওপর আঘাত হানা হয়। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উঠে আসে, পলিটেকনিক ছাত্রদলের কিছু নেতা ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বুটেক্সের আজিজ হলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ। কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়ায় ছাত্রলীগের রাজনীতিকে কেন্দ্র করে যেসব তথ্য অপপ্রচার হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তারা আরও বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের ওপর করা অতর্কিত হামলাকে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রশাসনকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। কিন্তু পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সামাল দেওয়ার আগেই তারা স্থান ত্যাগ করেন। এতে পুরো রাত আমাদের শঙ্কায় কাটাতে হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, পলিটেকনিক শিক্ষার্থী কর্তৃক বুটেক্সের নারী শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশালীন, কুরুচিপূর্ণ, কুৎসিত মন্তব্য এবং হেনস্তা করা হচ্ছে। তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
হামলার ভয়াবহতায় উল্লেখযোগ্যভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। বুটেক্সের ৪৮তম ব্যাচের উৎসব পাল নামের একজন শিক্ষার্থীকে আজীবনের জন্য এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাতে হয়েছে। বর্তমানে চক্ষু বিজ্ঞান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন তিনি। তাছাড়া তাহসিন নামের একজন শিক্ষার্থী আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
উৎসব পালের বড় ভাই উজ্জ্বল পাল সংবাদ সম্মেলনে আবেগতাড়িত হয়ে বলেন, আমার ভাই ছোটবেলা থেকে লেখাপড়ায় খুব মনোযোগী ছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার। কিন্তু এই সন্ত্রাসী হামলার ফলে তার একটি চোখ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। তার মানসিক অবস্থাও ভেঙে পড়েছে এবং সে এখন বুটেক্সে অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে আগ্রহী নয়।
তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দেশের বাইরে পাঠানো হোক। এছাড়া, তার উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ করে দেয়ার অনুরোধ করছি। সেই সঙ্গে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হামলার শিকারদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও সঠিক বিচারের জন্য প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান।